
জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আইন ও বিচার বিভাগে নতুন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার স্কোরিং পদ্ধতির অসঙ্গতির কারণে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা বাদ পড়ছেন-এমন অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী আবেদনকারীরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
জানা যায়, আগামী ৪ জানুয়ারি রোববার জাবির আইন ও বিচার বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বোর্ড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট ৩৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন। এর মধ্যে বিভাগীয়ভাবে নির্ধারিত স্কোরিং পদ্ধতির মাধ্যমে ১৯ জনকে শর্টলিস্ট করে বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। তবে এই শর্টলিস্ট প্রকাশের পর থেকেই তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, স্কোরিং প্রক্রিয়ায় একাডেমিক যোগ্যতা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ও গবেষণাকর্মের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। এমনকি প্রাথমিক যাচাইয়ে যেসব প্রার্থীর বাদ পড়ার কথা ছিল, তাদের মধ্য থেকেও একজনকে পরবর্তীতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি একজন প্রার্থীকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে স্কোর বাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগী প্রার্থী নাইমা রুহুল জানান, তার বোর্ড স্কোর ৩৭ দশমিক ৫০। যেখানে শর্টলিস্টভুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্কোর ৩৮। মাত্র অর্ধ নম্বর কম থাকা সত্ত্বেও তিনি বাদ পড়েছেন, যদিও তার প্রায় দুই বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং বর্তমানে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে অ্যাডজাঙ্ক্ট ফ্যাকাল্টি হিসেবে কর্মরত। অথচ শিক্ষকতা বা প্রকাশনার কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র স্কোর বেশি হওয়ায় কয়েকজন প্রার্থী শর্টলিস্টে স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ও শিক্ষার মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যদি নিজ বিভাগের যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাই এই বোর্ডে বাদ পড়ে যান, তাহলে এই সার্কুলার আসলে কাদের জন্য দেওয়া হয়েছে-সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এ অবস্থায় শর্টলিস্টের বাইরে থাকা আবেদনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার সঠিক প্রয়োগ, স্কোরিং পদ্ধতির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রকাশ এবং বিতর্কিত শর্টলিস্ট পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। দাবি আদায় না হলে বোর্ড পরীক্ষার দিন আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল ইসলাম বলেন, পূর্বে শিক্ষক নিয়োগে কোনো নির্দিষ্ট কাট মার্কস বা সুস্পষ্ট কাঠামো ছিল না। ন্যূনতম যোগ্যতা থাকলেই আবেদনকারীরা বোর্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পেতেন এবং নিয়োগের সিদ্ধান্ত বোর্ডের ওপর নির্ভর করত। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রণীত নতুন নীতিমালায় একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে ৪৫ শতাংশ নম্বর অর্জন করাকে প্রাথমিক শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া স্কোরিংয়ের ভিত্তিতে মোট আবেদনকারীর ৫০ শতাংশকে বোর্ডে ডাকার বিধান রয়েছে। সেই নিয়ম অনুসারেই কম স্কোর পাওয়ায় কিছু প্রার্থী বাদ পড়েছেন।
তবে স্কোরিং পদ্ধতির কারণে অনেক যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থী নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ছেন বলে অ ভিযোগ করেছেন একাধিক আবেদনকারী।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।





