বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, মুসলিম বিশ্বের স্মরণকালের বৃহৎ এই জানাজায় অংশ নেয় লাখ লাখ মানুষ। বুধবার বিকাল ৩টা ৪ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।

জানাজায় খালেদা জিয়ার পুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্য, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা এবং লাখ লাখ নেতাকর্মী জানাজায় অংশ নেন। এছাড়া বিদেশি কূটনৈতিকরা অংশ নেন।

জানাজায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা ছাড়াও পেশাজীবী, শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেত্রীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেককে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তে দেখা যায়।

জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাড়িয়ে বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, আগারগাঁও পর্যন্ত এলাকায় লাখ লাখ মানুষ এ জানাজায় অংশ নেন।

জানাজার নামাজ শেষে তাকে দাফনের জন্য নেওয়া হয় জিয়া উদ্যানে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে। সেখানে জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে তাঁকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ।

এর আগে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার কিছু আগে এভারকেয়ার হাসপাতালের হিমঘর থেকে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ গুলশানে তারেক রহমানের বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখানে তার আত্মীয় স্বজনকে মরদেহ দেখানোর পর নেওয়া হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।

গত ২৩ নভেম্বর গুলশানের বাসায় শারিরীকভাবে অসুস্থ হলে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ৪০দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ছয়টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।