তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: চায়ের রাজ্যে ও পর্যটন সমৃদ্ধ জেলা মৌলভীবাজারে শীতের দাপট বেড়েই চলেছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় পুরো জেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে শীতের তীব্রতা।
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ শেষ হবার আগেই হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন শীতের দাপটে স্থবির হয়ে পড়েছে।
শুত্রবার (১২ই ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় মৌলভীবাজারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ভোর হতেই জেলাজুড়ে ঘন কুয়াশা দেখা দেয়। সকাল ৮টা পর্যন্ত সড়কপথ ও আশপাশের মাঠ-ঘাটে কুয়াশায় চাদরে চারদিকে ডাকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় পুরো সকালজুড়ে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে হয়।
এদিকে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের খেটে–খাওয়া, দিনমজুর, নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ। বিশেষ করে তীব্র শীত এবং কুয়াশা উপেক্ষা করে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ঘর থেকে বের হওয়া শ্রমীকরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
শীত বাড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে অনেকেই বাড়িঘর ও রাস্তার মোড়ে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের অপ্রান চেষ্টা করছেন।
সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে চারপাশ। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ঘর থেকে বেড় হচ্ছে না তাই মানুষের চলাচল ও কম। কেউ গরম কাপড় জড়িয়ে কাজে বের হলেও অনেকে শীতের তীব্রতার কারণে ঘরেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। সূর্য ওঠার পরও রৌদ্রের তাপ তেমন পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকার রিকশাচালক আব্দুল গনি বলেন, তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। লোকজন এখনও ঘর থেকে বের হয়নি। সকাল ৯টা পর্যন্ত কোনো যাত্রী পাইনি। এখনই শীতের যে দাপট, সামনের দিনগুলোতে শীতে সংসার কীভাবে চলবে সে চিন্তায় আছি।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন,“শ্রীমঙ্গলে প্রতিদিনই শীতের তীব্রতা বাড়ছে। রাতে তাপমাত্রা আরও কমবে এবং কুয়াশা আরও ঘন হতে পারে। গত কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রির ঘরে ছিল। আজ তা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ ডিগ্রিতে। যা চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শীত এভাবে শুরু হওয়া মানে সামনের দিনগুলোতে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা করছেন এ কর্মকর্তা।