
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা | ২০ নভেম্বর ২০২৫
রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র বিএম মুশফিকুজ্জামান (২০)–এর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক।
মুশফিকুজ্জামান মুন্সিগঞ্জের টুঙ্গিবাড়ি উপজেলার পাচগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা বি এম মোখলেসুজ্জামান। তিনি খিলগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি ইনচার্জ রাশেদ জানান, আজ বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরাস ভবনের বাম পাশে একটি খোলা জায়গায় এক ছাত্রকে অচেতন পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পরিচয় শনাক্ত করে সহকর্মীদের নিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
পরে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে মুশফিকুজ্জামানকে দ্রুত ঢামেকে আনা হয়। তবে চিকিৎসকরা জানান হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
ঢামেক জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, ভিকটিমের শরীরে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এগুলো দুর্ঘটনা, সংঘর্ষ নাকি অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনার তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত প্রয়োজন। চিকিৎসকদের এ বক্তব্যে ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বর্তমানে মুশফিকুজ্জামানের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
ঘটনার পর বাড্ডা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সিকিউরিটি ইনচার্জসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মীর বক্তব্য নিয়েছে।
এক তদন্ত কর্মকর্তা জানান “মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন থাকায় সন্দেহ আরও বেড়েছে। এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড— সবকিছুই বিবেচনায় রেখে তদন্ত করছি।”
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে।
খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছে।





