মোহাম্মদ ইদরীস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে কোন শঙ্কা নেই, সংশয় নেই। সুন্দর ভাবে ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হবে। কোনো ধরণের সমস্যা তৈরি হবে না। এই যাবতকালে যতগুলো নির্বাচন দেখেছেন, এটি সবচেয়ে ভালো একটি নির্বাচন হবে। ভালো নির্বাচন করার যেগুলো কাজ সেগুলো তো হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৯লাখ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের কাজ প্রায় শেষ। নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা আসছে ইউটিউব, টিকটক থেকে। কিছু লোক আছে যারা ভিউ কামানোর জন্য এটা করছে। আমি বলবো যে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা একেবারেই অমূলক।
তিনি শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে একথা বলেন।
প্রেসক্লাব সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব (সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ শফিকুল আলম আরো বলেন, ভোটিং সেন্টার গুলোতে সিসিটিভি স্থাপনের কাজ প্রায় ৯০শতাংশ শেষ হয়েছে। শোচনীয় কেন্দ্রগুলোতেও সিসি ক্যামেরার কাজ প্রায় শেষ। অস্ত্রের যে উদ্ধার হয়েছে আমরা মনে করি খারাপ হয়নি। কিছু কিছু আছে উদ্ধার কার্যক্রম, পর্যবেক্ষণ আছে। এটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই।
তিনি বলেন, আমাদের অনেকগুলো সংস্কার কমিশন করা হয়েছিল। সবগুলো আমরা একসাথে করতে পারি নাই। আমাদের ওই সময়টা ছিল না। সেটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আমাদেরকে সেই সময়টা দেয়া হয়নি। ফলে মূল কাজগুলো আমরা ঠিকই করেছি।
নির্বাচন অংশগ্রহনমূলক করতে আর্ন্তজাতিক পর্যায় থেকে কোনো চাপ আছে কি না এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো চাপ নাই। কেউ এসে আমাদেরকে বলছে না আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে নিয়ে আসুক। কেউ বলছে না। আওয়ামী লীগ যে ধরণের খুন, গুম, ভয়ানক ডাকাতির রাজ্য কায়েম করেছিল এটা তো পুরো পৃথিবীবাসী জানে। তাদের পক্ষ হয়ে কেউ বলছে না যে ওদের আপনার সুযোগ দেন। হয়তো বা বলত কিন্তু বলার সুযোগ তো আওয়ামী লীগ রাখে নাই। আওয়ামী কেউ এসে কি ক্ষমা চাচ্ছে, কেউ অনুতপ্ত হচ্ছে। আন্দোলন তো একটা-দুইটা ছেলে-মেয়ে করে নাই। আরো বলছে কি যারা রাস্তায় নেমেছিল তারা জঙ্গী। বাংলাদেশের পুরো মানুষকে জঙ্গী বানিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, এনায়েত উল্লাহ খান খুব নামকরা সাংবাদিক ছিলেন। ওনি বলেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান যে পলিসি নিয়েছিলেন, তাতে করে সারা বাংলাদেশে ৬ কোটি ৫০ লাখ লোককে ওনি রাজাকার বলেছিলেন। আওয়ামী লীগের এখন শেখ হাসিনা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা পুরো বাংলাদেশের সবাইকে জঙ্গী বলছে। এগুলো বললে কে আছে যে তার প্রতি নূন্যতম দয়া দেখাবে।
তিনি বলেন, অনেকে বলবেন আওয়ামী লীগের লোকেরা কি করবে। আওয়ামী লীগের লোকেরা গিয়ে ভালোভাবে ভোট দেবে, তাদের পছন্দের যে প্রার্থী আছে তাকে তারা ভোট দিবে। আওয়ামী লীগের লোকেরাও কি তাদের সাড়ে ১৫ বছরে ভোট দিতে পেরেছে। তাদের হয়ে পুলিশ ভোট দিয়ে দিয়েছে। আমাদের যে বিদেশী বন্ধুরাও, তাঁরাও আত্মবিশ্বাসী, সরকার ভালো নির্বাচন করবে। তাঁরা সব ধরণের সহায়তা আমাদের দিবে। কেউ কিন্তু নির্বাচন নিয়ে সংশয়ের কথা বলছেন না।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কি পারে আমরা নভেম্বর মাসে দেখেছি। তাদের নেত্রীর যখন বিচারের রায় হলো বা তারো আগে যখন হরতাল তারা কি পারে-দুই-একটা ককটেল মারতে পারে, কিছু গির্জায় ককটেল মারে, বাসে ককটেল মেরে আগুন দিয়ে একজনকে মেরে ফেলেছে। এর বাইরে তারা কি পারে। এর বাইরে তারা একটা মিছিল ডাকতে পারে। কেউ যায় তাদের মিছিলে!
তিনি বলেন, আমরা সবাইকে আহবান করছি যে আপনার 'হ্যাঁ' ভোট দিবেন। বাংলাদেশে যদি অপশাসন দূর করতে চান 'হ্যাঁ' ভোট দেন। বাংলাদেশে যাতে স্বৈরাচার আর জন্ম না নেয় সেই ব্যবস্থা যদি করতে চান 'হ্যাঁ' ভোট দেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সহ-সভাপতি ইব্রাহিম খান সাদাত, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আরজু, সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আলম, সাবেক সহ-সভাপতি শেখ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক এমদাদুল হক, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আল-আমীন শাহীন, পিযূষ কান্তি আচার্য্য, সাবেক সহ-সভাপতি মফিজুর রহমান লিমন, সাবেক অর্থ সম্পাদক মোঃ শাহজাদা, সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল বাবু, শফিকুল ইসলাম ও মোঃ শাহাদৎ হোসেন।
মত বিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ফরহাদুল ইসলাম পারভেজ।আলোচনা সভা শুরুর আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব (সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ শফিকুল আলমকে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট এবং উপহার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন কুমার দে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ ওবায়দুর রহমান, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।